শাহবাগ আন্দোলন ২০১৩: যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে গণজাগরণ

- ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়
- রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে শুরু হয় ফাঁসির দাবিতে অবস্থান — 'গণজাগরণ মঞ্চ'
- ব্লগার ও তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনটি জাতীয় হয়ে ওঠে; দীর্ঘ দিন টানা চলতে থাকে
- উচ্চ আদালতে আপিলে মোল্লার দণ্ড মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত হয়; ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ ফাঁসি কার্যকর হয়
২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত-ই-ইসলামীর রাজনীতিবিদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পরপরই ঢাকার কেন্দ্রীয় শাহবাগ মোড়ে ফাঁসির দাবিতে বিশাল সমাবেশ গড়ে ওঠে— যা ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ নামে পরিচিত হয়।
আন্দোলনের স্রোত
ব্লগার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ তরুণদের অংশগ্রহণে আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রাত-দিন গান, কবিতা আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাহবাগ। হাজার হাজার মানুষ ফাঁসির দণ্ডের দাবিতে টানা হাজারা করেন। আন্দোলনের ঢেউ দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে, ব্লগাররা দেশ-বিদেশে মনোযোগ কাড়েন।
পরিণতি
উচ্চ আদালত আপিল শুনানিতে মোল্লার দণ্ড মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করেন এবং রিভিউ পিটিশন নাকচ হলে ১২ ডিসেম্বর ২০১৩-এ মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয়। আন্দোলনের সময় শ্রমজীবী মানুষের এক অংশের পাল্টা সমাবেশের ঘটনাও ঘটে, যেখানে সহিংসতায় প্রাণ হারান কেউ কেউ — ওই ঘটনায় পরবর্তীতে কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। শাহবাগ আন্দোলন বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ-বিচার নিয়ে তরুণ প্রজন্মের উচ্চকণ্ঠকে চিহ্নিত করে।
শাহবাগের এই জাগরণে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ একসূত্রে গাঁথা ছিল; রাতভর কবিতা-গানে ভরে থাকত মোড়টি। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ব্লগার ও শিক্ষার্থীদের অগ্রণী দল।
প্রশ্নোত্তর
আব্দুল কাদের মোল্লা কে ছিলেন?
জামায়াত-ই-ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল; ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন।
গণজাগরণ মঞ্চ কী?
রায়ের প্রতিবাদে শাহবাগে ব্লগার ও তরুণদের অংশগ্রহণে টানা অবস্থান-আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ফাঁসির দাবি করা হতো।
প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।





