২০০৭ সালের মহাবন্যা: দুই দফায় ৪০ জেলার ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

- জুলাই-আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের দুই দফা বন্যায় ৪০টি জেলার প্রায় ২২ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়
- ডিজিএইচএসের হিসেবে ৮৩৮ জনের বেশি প্রাণহানি হয়; ৭২৯ জন ডুবে এবং ৭০ জন সাপের কামড়ে মারা যান
- মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখের বেশি; ৬৯,৮০৭টি ঘর সম্পূর্ণ ও ৯১৫,৫৩২টি ঘর আংশিক ধ্বংস হয়
- ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে তোলে জরুরি পানি ও স্যানিটেশন সংকট
২০০৭ সালের জুলাই মাসে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি ফুঁসে উপচে পড়ে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আরেক দফা বন্যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি
সরকারি হিসাবে দুই দফা বন্যায় ৪০টি জেলার প্রায় ২২ লাখ ৮৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়; মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে ৮৩৮ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটে, যাদের ৭২৯ জন ডুবে মারা যান। বন্যায় ৬৯,৮০৭টি ঘর সম্পূর্ণ এবং ৯১৫,৫৩২টি ঘর আংশিক ধ্বংস হয়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি কৃষকদের কোমর ভেঙে দেয়, ঢলে ভেঙে যায় রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
রোগের প্রাদুর্ভাব
পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ত্বক রোগে আক্রান্ত হয়। শিশুদের মধ্যে ডুবেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটায় বিশেষজ্ঞরা আতঙ্ক প্রকাশ করেন।
ত্রাণ ও প্রতিক্রিয়া
সরকার, ইউনিসেফ, আইএফআরসি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো বিশুদ্ধ পানি, ওআরএস, খাবার ও জরুরি আশ্রয় সরবরাহ করে। টিকার অভিযান ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো রোগ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন ছিল কঠিন, কারণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বেশির ভাগ ঘরবাড়িই ছিল মাটির তৈরি।
প্রশ্নোত্তর
২০০৭ সালের বন্যা কয়টি দফায় হয়েছিল?
প্রধানত দুই দফায়—জুলাই-আগস্টে প্রথম দফা এবং সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিতীয় দফা; দুই দফাই ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা প্লাবিত হয়।
বন্যায় মৃত্যুর প্রধান কারণ কী ছিল?
ডুবেই বেশিরভাগ মৃত্যু হয়; ৮৩৮ জনের মধ্যে ৭২৯ জন ডুবে মারা যান—অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। সাপের কামড় ও ডায়রিয়াতেও অনেক প্রাণহানি ঘটে।
প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি
3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।





