ইতিহাসনিশ্চিত

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (১৯৬৮-৬৯): বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ও প্রত্যাহার

প্রকাশিত: 2 মিনিট পাঠ
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (১৯৬৮-৬৯): বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা ও প্রত্যাহার
এক নজরে
  • ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়
  • অভিযোগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে ভারতের সহায়তায় স্বাধীন করার ষড়যন্ত্র; মামলার নাম হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
  • ১৯৬৮ সালের জুনে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে গোপন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়; ১৯৬৯ সালের শুরুতে গণঅভ্যুত্থান জোরদার হয়
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মামলা প্রত্যাহার হয় এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানসহ সন্ত্রস্ত্র জনতার স্বাগত জ্ঞাপনসহ বঙ্গবন্ধুকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়

১৯৬৮ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করে যে পূর্ব পাকিস্তানকে ভারতে-সমর্থিত সশস্ত্র ষড়যন্ত্রে ভেঙে স্বাধীন করার একটি পরিকল্পনা ধরা পড়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান, যাকে ১৯৬৬ সালের মে থেকে ডিফেন্স অফ পাকিস্তান রুলসে বন্দি রাখা হয়েছিল। মামলাটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে, কারণ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলাকে ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র বলা হয়।

৩৫ জনের বিচার

প্রধান আসামি শেখ মুজিব ছাড়াও ছিল সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কয়েকজন তরুণ কর্মকর্তা, বেসামরিক কর্মচারী ও শিক্ষক। ১৯৬৮ সালের জুনে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে গোপন বিচার শুরু হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে অনেকে তাঁকে ভারতের গুপ্তচর প্রমাণের চেষ্টা করে, কিন্তু জনগণের দৃষ্টিতে এটি হয়ে ওঠে বাঙালি অধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানিদের নিপীড়ন।

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৮-৬৯ সালের দিকে আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র হয়; ১৯৬৯ সালের জানুয়ারিতে প্রাণহানি ও বিধ্বংসী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আসামিদের মুক্তি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দাবিতে পরিণত হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি হাজতে সেরা জাহুরুল হকের মৃত্যু ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।

মামলার প্রত্যাহার ও বিজয়

চরম চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মামলা প্রত্যাহার করে এবং সব অভিযুক্ত মুক্তি পায়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়; সেখান থেকে বাঙালি জাতির রাজনৈতিক জাগরণের আরেকটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

পাঠ

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রমাণ করে যে কোনো সরকার জনগণের ন্যায্য দাবিকে অপরাধ সাজিয়ে দমন করতে পারে না। এই সংগ্রাম-পরবর্তী গণজাগরণই একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনের মানসিক প্রস্তুতির অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে।

প্রশ্নোত্তর

আগরতলা মামলার অভিযোগ কী ছিল?

পূর্ব পাকিস্তানকে ভারতের সহায়তায় স্বাধীন করার জন্য সশস্ত্র ষড়যন্ত্র; এতে শেখ মুজিব, সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকসহ ৩৫ জন অভিযুক্ত হন।

মামলাটি কীভাবে শেষ হয়েছিল?

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতার কারণে সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মামলা প্রত্যাহার করে; পরদিন অভিযুক্তরা মুক্ত হন।

প্রমাণ দেখুন— কেন নিশ্চিত বলছি

3টি স্বাধীন পত্রিকায় একই তথ্য মিলেছে — বক্তব্যটি যাচাইকৃত।